ঘোড়াকে দৌড়ে হারিয়ে দেওয়া পৃথিবীর একমাত্র পাখি || ফোরাস্রাকোস || দি টেরর বার্ড
ঘোড়াকে দৌড়ে হারিয়ে দেওয়া পৃথিবীর একমাত্র পাখি || ফোরাস্রাকোস || দি টেরর বার্ড
ফোরাস্রাকোস এটি পৃথিবীর বিলুপ্ত প্রাণী গুলির মধ্যে একটি। প্রায় ১০-১৫ লক্ষ বছর আগে মধ্য আমেরিকায় এই প্রাণীটির অস্তিত্ব ছিল বলে ধারণ একরা হয়। প্রাণীটি দি টেরোর বার্ড নামে অধিক পরিচিত। । কারণ এর উচ্চতা, হিংস্রতা, এবং শিকার করার এক অসাধারণ ক্ষমতা। মধ্য আমেরিকায় বসবাসকারী ছোটো স্তনোপায়ী প্রাণীগুলো ছিল এর খাবার।দানবিক চেহারা
ফোরাস্রাকোস প্রায় ২.৫ মিটার অর্থাৎ প্রায় ৮ ফুট লম্বা এক অতি বিশালকায় পাখি। এবং ওজন প্রায় ১৩০ কিলোগ্রাম প্রায় ১৫০ কেজির মতো ছিল। (২৮০ পাউন্ড) ছিল, সুতরাং বোঝাই যায় এর দানবিক চেহারার সাথে "টেরর বার্ড" ডাকনামটি যুক্তিসঙ্গত ছিল: এটি টাইটানিস, কেলেনকেন এবং ব্রন্টোর্নিস মতো সর্বকালের বৃহত্তম মাংসাশী পাখি ছিল। এর প্রাথমিক পাখায় শিকারের মোকাবিলার জন্য মাংসের হকের মতো আকারের নখর ছিল আর সবচেয়ে সাংঘাতিক অস্ত্র ছিল এর বিশাল চঞ্চু, যার সাহায্যে শিকারকে শুধুমাত্র হত্যা করা না, শিকারের মাংস ভেদ করে হাড় পর্যন্ত ফুটো করবার ক্ষমতা ছিল। বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং খরগোশ এবং ক্যারিওন এর খাদ্যতালিকায় ছিল।![]() |
| দি টেরর বার্ড |
ছোট্ট দুটি কীটপতঙ্গ যাদের হাতি খুব ভয় পায় 😄😄😄
মাথার খুলির গঠন
এর খুলিটি ষাট সেন্টিমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল, একটি শক্তিশালী, হুক-টিপড চিট দিয়ে সজ্জিত ছিল। ঠোঁটের গঠন এবং পায়ের আঙ্গুলের বৃহত নখরগুলি প্রমাণ করে যে এটি শিকারের পাখি ছিল। এটি পাতাগোনিয়ার তৃণভূমির মালভূমি এবং পাহাড়ের উপর দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, ছোট সরীসৃপ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শিকার করত পাশাপাশি ব্রন্টোর্নিসের ন্যায় আরও বড় আকারেরও শিকার করত।ঘাড়ের গঠন ও ব্যাবহার
ক্লোদিয়া পি তাম্বুসি, রিকার্ডো ডি মেন্ডোজা, ফেদারিকো জে ডিগ্রঞ্জ এবং মারিয়ানা বি পিকাসোর কাজের ভিত্তিতে ফোরাস্র্যাসিডের ঘাড় তিনটি ভাগে বিভক্ত। ঘাড়ের উঁচু অঞ্চলে, ফোরাস্র্যাসিড বিভাজক নিউরাল স্পাইনস (বিএনএস) করেছেন ) যদিও এর নিম্ন অঞ্চলে উচ্চ নিউরাল মেরুদণ্ড রয়েছে। ঘাড়ের এই ধরনের কাঠামো সূচিত করে যে ফোরাস্র্যাসিডের অত্যন্ত নমনীয় এবং বিকশিত। অর্থাৎ এই ধরনের ঘাস ঘাড় তার পাহাড়ি মাথার বহন সহ্য করতে এবং শিকারদের দারুন ভাবে শিকার করতে সহায়তা করে। তাদের গাড়ির এদরনের গঠন পাখিটির দ্রুতগতিতে দৌড়ানো সহায়ক ছিল যদিও প্রাথমিকভাবে তাদের কার দেখলে অনুমান করা যায় না যে এদের ঘাড় এতটা বিস্তৃত, তা দেখতে আসলে ছোট ঘাড় যুক্ত এক বিশালই পক্ষী।তার নমনীয় কঙ্কালের ঘাড়ের কাঠামোটি প্রমাণ করে যে এটি প্রত্যাশিত নাগালের বাইরে আরও প্রসারিত হতে পারত এবং এর উচ্চতা ব্যবহার করে শিকারটিকে ভয় দেখাতে পারে, এটি আরও সহজেই শিকারে আঘাত হানতে পারত। একবার নিম্নগামী শিকারের প্রস্তুতিতে পূর্ণ দৈর্ঘ্যে ঘাড়ের পেশির বিস্তৃতি ঘটিয়ে নীচের দিকের শিকারের প্রতি মারাত্মক গতি এবং দুর্ধর্ষতার সাথে শিকার করতে পারত। ফলে ছোটো প্রাণীগুলোর তার এক হানাতেই কুপোকাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকতো।
![]() |
| ফোরাস্রাকোস |
এক বিশেষ ক্ষমতা, যা এদের সবার থেকে আলাদা করে দেয়
গবেষকদর মতামত অনুযায়ী ফোরাস্র্যাসিডের প্রজাতির পাখিগুলো উড়তে পারতো না। কিন্তু এদের এক অবাক করা অস্ত্র ছিল। দি টেরর বার্ডগুলি পাখিগুলি অত্যন্ত দ্রুত দৌড়াদায়ক ছিল, যা ঘণ্টায় ৪৮ কিলোমিটার বা ঘণ্টায় ৩০ মাইল পর্যন্ত গতিতে দৌড়াতে সক্ষম হয়েছিল। একটি ঘোড়ার সাথে এর রেস লাগালে ঘোড়াকে পেছনে ফেলার জন্য যথেষ্ট।ছোট ছোট প্রাণীদের শিকার করবার কারণ
যদিও গবেষকদের অনেকের ধারণা ফোরাস্র্যাসিডের ঘাড়, চঞ্চু, পায়ের নখ এত শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও এরা বড়ো কোনো প্রাণীদের শিকার করতে পারতো না। ফোরাস্র্যাকস সাধারণত খরগোশ জাতীয় প্রাণী অর্থাৎ খরগোশের আকারের ছোটো ছোটো শিকারিদের শিকার করতে পারতো। গবেষকরা অবশ্য এর কারণ বলেছেন। গবেষকদের মতে এরা বড়ো কোনো প্রানীদের শিকার করতে পারতো না, এদের চঞ্চুর অনুপাতের কারণে, ফোরাস্র্যাসিডের চোয়াল শিকারটিকে মেরে ফেলার জন্য শক্তিশালী কামড় শক্তি তৈরি করতে পারত না। যদিও এই নিয়ে গবেষকদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে।![]() |
| ফোরাস্র্যাসিডের শক্তিশালী চঞ্চু |
পাখির বাসা যা খাওয়া হয়
সাধারণত মনে করা হয় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি এবং মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। যদিও এদের বেশ কয়েকটি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
DEAR READERS, ANY SUGGETION FOR THIS BLOG AND ANY KIND OF POST, PLEASE COMMENT. BECAUSE YOUR VALUABLE COMMENT WILL BE TAKEN HAPPILY. IF YOU HAVE ANY DOUBT PLEASE LET ME KNOW.